লেখক, গবেষক, শিক্ষক এবং উদ্যোক্তা – বহু গুণে গুণান্বিত জনাব আবুলাইচ সম্রাট পড়াশুনা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ থেকে। তিনি ২০২৩ সালে এ বিভাগ থেকে সিজিপিএ ৪.০০ নিয়ে স্নাতকোত্তর সম্মাননা অর্জন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল কনজারভেশন বায়োলজি।
তিনি একই বিভাগের স্নাতক শিক্ষাবর্ষ ২০১৬-১৭ এর শিক্ষার্থী ছিলেন এবং চার বছর মেয়াদী এ সম্মাননায় তিনি সর্বোচ্চ সিজিপিএ অর্জন করেন। পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক অ্যাক্সিলেন্সের জন্য পেয়েছেন রাষ্ট্রপতি থেকে ‘অধ্যাপক ড. শেখ শামীমুল আলম স্মৃতি স্বর্ণপদক – ২০২০’ এবং ভাইস-চ্যান্সেলর ও হল প্রভোস্টের হাত থেকে গ্রহণ করেছেন যথাক্রমে ‘ডিনস অ্যাওয়ার্ড – ২০১৯-২০’ এবং ‘প্রভোস্ট অ্যাওয়ার্ড – ২০২০’।
তিনি নটর ডেম কলেজ, ঢাকা-র শিক্ষার্থী ছিলেন। এর পূর্বে মাধ্যমিকে অধ্যয়ন করেছেন The Millennium Stars School and College, Rangpur এবং গুনাইগাছ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, উলিপুর, কুড়িগ্রাম থেকে। তিনি তার জীবনের এসব কিঞ্চিৎ সফলতার জন্য তার সকল শিক্ষকদের কাছে আজীবন ঋণী।
গবেষণা ও দেশভ্রমণ
আবুলাইচ সম্রাট এ পর্যন্ত তিনটি দেশ ভ্রমণ করেছেন। তিনি ২০২৩ সালের মে মাসের শুরুতে সৌদি আরবে পবিত্র উমরাহ পালন করেন। পরবর্তীতে জুন মাসে তিনি দক্ষিণ কোরিয়ার Ministry of Environment-এর অধীনে অনুষ্ঠিত 12th Biodiversity Resource Training Program-এ বাংলাদেশের হয়ে সহ-প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০২৪-এর অক্টোবরে তিনি চীনের উহান শহরে ইন্সটিটিউট অব হাইড্রোবায়োলজি কর্তৃক আয়োজিত International Workshop on Monitoring and Control of HABs নামক কর্মশালায় যোগ দেন। পাশাপাশি নভেম্বরে তিনি 19th International Symposium on River and Lake Environment (ISRLE 19)-এও দেশি-বিদেশি বহু শিক্ষার্থীদের সাথে অংশগ্রহণ করেন।
জনাব আবুলাইচ সম্রাটের এখন পর্যন্ত প্রকাশিত গবেষণা প্রবন্ধের মোট সংখ্যা ৭টি। তিনি কনজারভেশন বায়োলজি, এথনোবোটানি, এনভায়রনমেন্টাল ইমপ্যাক্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং আরবান ভেজিটেশন নিয়ে গবেষণায় হাত পাকিয়েছেন। বর্তমানে তিনি গবেষণার পাশাপাশি Head of Research Training Programs এবং Foreign Affairs Director হিসেবে যুক্ত আছেন Bangladesh Society for Ecological Research Initiative (BSERI)-এ। এছাড়া একই প্ল্যাটফর্মের এক্সিকিউটিভ কমিটির তিনি একজন সম্মানিত সদস্য।
বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিস্তর গবেষণা করার অভিজ্ঞতা হয়েছে। The International Union for Conservation of Nature and Natural Resources (IUCN)-এর অধীনে কাজ করেছেন বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রেমা-কালেঙ্গা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে (RKWS)। BCL Associates Ltd.-এর অধীনে World Bank-এর প্রজেক্টে কাজ করেছেন ঝিনাইদহ, যশোর এবং সাতক্ষীরায়। পাশাপাশি দেশের দক্ষিণের মহেশখালি এবং সোনাদিয়াতে করেছেন পরিবেশ সম্পর্কিত গবেষণার কাজ। এছাড়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবোরিকালচার সেন্টারের অধীনে তিনি পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ে কয়েক মাসব্যাপী বৃক্ষশুমারি কার্যক্রমের নেতৃত্ব দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি পুরো দেশের নানা বনাঞ্চল ভ্রমণ করছেন নির্দিষ্ট কয়েকটি উদ্ভিদের পপ্যুলেশন স্ট্যাটাস নির্ধারণের জন্য। এসকল গবেষণা মাঠপর্যায়ে করার পাশাপাশি তিনি গবেষণা-পরবর্তী নানা রিপোর্ট প্রস্তুতি, অ্যাসেসমেন্ট প্রদান এবং গাইডলাইন তৈরিতেও সম্মুখ ভূমিকা পালন করেছেন।
গবেষণায় তার হাতেখড়ি তার পরম শ্রদ্ধেয় শিক্ষাগুরু, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জনাব ড. মোহাম্মদ জসীম উদ্দিনের হাত ধরে।
বই এবং প্ল্যাটফর্ম
আবুলাইচ সম্রাট কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে উদ্ভিদবিজ্ঞানকে চিন্তনীয় একটি বিষয় হিসেবে উপস্থাপনের জন্য লিখেছেন ‘প্ল্যান্টি’ নামক বই। পাশাপাশি একই শ্রেণীর প্রাণিবিজ্ঞান বিষয়ে নিয়ে লিখেছেন ‘জ্যুওলজিয়া’। উভয় বই বোর্ডের পাঠ্যক্রম অনুযায়ী লিখিত হলেও কনসেপ্টের উপর ভিত্তি করে মৌলিকভাবে সাজানো হয়েছে। এ বই দুটি ধরেই তার লেখক হিসেবে পথচলা শুরু।
মৌলিক এ দুটো বই নিয়ে তিনি শিক্ষার্থীদের থেকে যে ভূয়সী প্রশংসা পেয়েছেন, তাই তার ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে। সৃজনশীল উপায়ে এবং গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে বই লেখার নেশায় ‘প্ল্যান্টি’ এবং ‘জ্যুওলজিয়া’-র পর একে একে মোট ৬টি বই প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুধু বই লেখা নয়, তিনি জীববিজ্ঞানকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কাছে সহজভাবে উপস্থাপনের জন্য Plantlet (plantlet.org) নামক একটি এডুকেশনাল ব্লগের সাথে যুক্ত ছিলেন পাঁচ বছর ধরে। সেই ব্লগের প্রধান হিসেবে Admin of Management থাকার পাশাপাশি তিনি জীববিজ্ঞানের নানা বিষয়ের উপর প্রায় ১১০টি প্রবন্ধ ঘরনার ব্লগ লিখেছেন। এছাড়া কলেজ শিক্ষার্থীদের কাছে জীববিজ্ঞানকে মজাদার করে উপস্থাপনের জন্য বই লেখা ছাড়াও তিনি সহ-প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে তৈরি করেছেন EazyBio নামক একটি প্ল্যাটফর্ম। এই প্ল্যাটফর্মকে একটি আমব্রেলা অর্গানাইজেশন হিসেবে রেখে এর অধীনে EazyBio Academy নামক একটি শিক্ষাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে। এ প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে জীববিজ্ঞান এবং বিসিএস-কেন্দ্রিক কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। আবুলাইচ সম্রাট এ একাডেমির একজন অস্থায়ী মেন্টর হিসেবে কাজ করছেন।
পছন্দের বিষয়
আবুলাইচ সম্রাট জীববিজ্ঞান নিয়ে পড়তে ও পড়াতে ভালোবাসেন। তার পছন্দের বিষয় জেনেটিক্স এবং কনজারভেশন বায়োলজি। তিনি ভবিষ্যতে জেনেটিক্সের উপর একজন ভালো গবেষক হওয়ার স্বপ্ন দেখেন। জীববিজ্ঞানের পাশাপাশি তিনি নিজেকে ইতিহাস ও রাজনীতি বিষয়ক একাডেমিক চর্চায় ব্যস্ত রাখেন। সমাজের নানা জটিল বিষয় নিয়ে তিনি গবেষণা, অধ্যয়ন ও লেখালেখি করতে ভালোবাসেন যার ফলে তিনি বন্ধুমহলে একজন যুক্তিবাদী এবং প্রগতিশীল ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
তিনি বিগত ৪৪তম বিসিএস-এ পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন।
পারিবারিক জীবন
দুই ভাই, এক বোন এবং বাবা-মা-কে নিয়ে আবুলাইচ সম্রাটের পরিবার। তার বড় ভাই সাব্বির খান সায়েম করোনাকালীন বিনামূল্যে অনলাইনে শিক্ষাদান এবং দরিদ্রদের সেবা করার জন্য ‘Youth Volunteer Award – 2020’ অর্জন করেন।